Saturday, December 7, 2019

উম্মুল মুমিনিন জয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা



উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুন নিছায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শানে  উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুন নিছায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

‘দীনের ক্ষেত্রে উৎকর্ষে, তাকওয়ায়, সত্যভাষণে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আমানতদাররি ও দান খয়রাতের ক্ষেত্রে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুন নিছায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে উত্তম কোনো পবিত্র নারী আমি কখনো দেখিনি৷’
আয়েশার ওপর অপবাদ দেয়ার ঘটনার ব্যাপারে তিনি নিজেই বলেন—
‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে জয়নবকে জিজ্ঞেস করেন ৷ অথচ রাসুলের স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র তিনিই আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন৷ আল্লাহভীতির কারণে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন৷ আমার ব্যাপারে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমিতো আমার চক্ষু-কর্ণ হেফাজত করছি৷ তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া কিছুইতো আমার জানা নেই।’
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরও বলেন—
‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, তোমাদের মধ্যে যার হস্ত সবচেয়ে দরাজ সে সকলের আগে আমার সঙ্গে মিলিত হবে ৷’ আয়েশা বলেন, ‘এরপর আমরা মেপে দেখতাম, আমাদের মধ্যে কার হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা ৷ জয়নবের হাত ছিলো সবচেয়ে লম্বা ৷ কারণ, তিনি নিজ হাতে কাজ করতেন এবং প্রচুর দান-খয়রাত করতেন !
জয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা হিজরি ২০ সালে ইন্তেকাল করেন৷ আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তার জানাজার নামাজের ইমামতি করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে তাকে দাফন করা হয়৷
তিনিই সর্বপ্রথম নারী যার জন্য প্রথম জানাজার খাটিয়ার ব্যবস্থা করা হয় ৷
[বুখারি, ‍মুসলিম ও ওয়াকিদির সূত্রে ইবনে কাসির, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৭৮-২৭৯]

উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)

১০ রমজান, হিজরতের তিন বছর আগে ইন্তিকাল করেছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)’র প্রথম স্ত্রী  উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)। মানবজাতির মধ্যে চার শ্রেষ্ঠ নারীর মধ্যে অন্যতম হলেন এই মহীয়সী নারী।  অন্য তিনজন হলেন নিজ কন্যা হজরত ফাতিমা জাহরা (রা.) যিনি সব যুগের নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, হজরত ঈসা (আ.) এর মা হজরত মরিয়ম (রা.), ফেরাউনের স্ত্রী তথা মুসা (রা.)’র মাতৃতুল্য লালনকারী হজরত আসিয়া (রা.)। উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুসলমান। (যদিও পুরুষদের মধ্যে প্রায় একই সময়ে আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (রা.) দশ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে তাঁকেও প্রথম মুসলমান ধরা হয়।) বিশ্বনবী (সা.)’র  পেছনে সর্বপ্রথম যে দুই জন জামায়াতে নামাজ আদায় করেছেন তারা হলেন উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ও বালক আলী (রা.)। খাদিজা (রা.) মহান আল্লাহর এতটা নৈকট্য লাভ করেছিলেন যে যখন হজরত জিবরাইল (আ.) ওহী নিয়ে বিশ্বনবী (সা.)’র কাছে নাজিল হতেন তখন তিনি প্রথমে মহান আল্লাহর সালাম পৌঁছে দিতেন এই মহীয়সী নারীর কাছে। মহানবী (সা.)’র সঙ্গে বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর কাটিয়েছেন মহীয়সী নারী হজরত খাদিজা(রা.)। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন বিশ্বনবী (সা.) অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
রাসূল (সা.)-কে বিয়ের আগেও হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একত্ববাদী ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)’র ধর্মের অনুসারী এবং আরব জাতির মধ্যে সবচেয়ে ধনী মহিলা। হাজার হাজার উট তাঁর মালিকানাধীন বাণিজ্য-সম্ভার দেশ থেকে দেশে বহন করত বলে ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.)’র সঙ্গে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ৪০ বছর (এ সময় তাঁর বয়স আরো কম ছিল বলে কেউ কেউ মনে করেন, তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই তাঁর ৪০ বছর বয়স্ক হওয়ার মতটি সমর্থন করেন)। বিশ্বনবী (সা.)’র সঙ্গে বিয়ের ১৫ বছর পর যখন মহান আল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্বামীকে নবুয়ত দান করেন তখন থেকেই উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) নিজের সব সম্পদ বিশ্বজনীন ধর্ম ইসলামের প্রচার-প্রসার ও নও-মুসলিমদের ভরণ-পোষণের কাজে ব্যয় করতে থাকেন এবং ইসলামের পেছনেই ব্যয় হয়ে যায় তাঁর সমস্ত সম্পদ। ফলে তাঁর ইন্তিকালের পর ইয়াতিম কন্যা ফাতিমা (রা.) একটি মুদ্রা পরিমাণ সম্পদও উত্তরাধিকারসূত্রে (মায়ের কাছ থেকে) লাভ করেননি।
ইসলামের শৈশবে এর শত্রু কাফির-মুশরিকরা যখন মুসলমানদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপ করে তখন শো’বে আবু তালিব উপত্যকায় দিনের পর দিন অনাহারে থাকতে হয়েছিল উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)-কে।  ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনগুলোতে যখন রাসূল (সা.)-কে নানাভাবে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হতে হত এবং  তাঁর মাথায় ছাই বা পশুর নাড়ীভুঁড়ি চাপানো থেকে শুরু করে দাঁত-মুবারক পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছিল শত্রুরা তখন সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী হিসেবে পাশে ছিলেন জীবন-সঙ্গী উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)।
উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.)’র পবিত্র স্মৃতি যখনই স্মরণে আসত বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র দু’চোখ বেয়ে ঝরে পড়ত অশ্রুধারা। অন্য কোনো স্ত্রীই হজরত খাদিজা (রা.)’র সমক নন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশ্বনবী (সা.) খাদিজা (রা.) বান্ধবীদেরকেও শ্রদ্ধা করতেন। একবার বিশ্বনবী (সা.)’র কোনো এক স্ত্রী নিজেকে হজরত খাদিজা (রা.)’র চেয়ে উত্তম বলে দাবি করলে আল্লাহর রাসূল তাকে তিরস্কার করে বলেন : ‘আল্লাহর কসম, মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে কোনো উত্তম স্ত্রী দান করেননি। তিনি আমার প্রতি তখনই ঈমান এনেছিলেন যখন অন্যরা আমাকে বিদ্রুপ করত, তিনি আমাকে তখনই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যখন অন্যরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি তার সম্পদ ব্যয় করেছেন আমার জন্য এবং তাঁর মাধ্যমেই আমি সেইসব সন্তানের অধিকারী হয়েছি যা অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে আমার জন্য নির্ধারিত হয়নি। (বুখারি শরীফ) বলা হয়ে থাকে বিশ্বনবী (সা.)’র চারিত্রিক সুষমা ও মহানুভবতা, আলী (রা.)’র তরবারি এবং খাদিজা (রা.)’র অঢেল সম্পদ ছাড়া ইসলাম কখনও এতটা বিকশিত হতে পারত না। যে বছর হজরত খাদিজা (রা.) ইন্তিকাল করেন সেই বছর ইন্তিকাল করেন রাসূল (সা.)’র প্রিয় চাচা ও অভিভাবক হজরত আবু তালিব। তাই এ বছরটিকে ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল হোজন’ বা দুঃখের বছর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।     সূত্র : রেডিও তেহরান

উম্মুল মুমিনিন হজরত সাওদা : আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

সৌভাগ্যবান নারী হজরত সাওদা বিনতে যামআ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় স্ত্রী। যারা প্রথম ইসলাম কবুল করেন হজরত সাওদা তাদের একজন। হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যু পর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত সাওদা বিনতে যামআকে বিয়ে করেন। তিন বছর কিংবা ৩ বছর কিছু বেশি সময় ধরে তিনি একক দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। হজরত সাওদা বিনতে যামআর ডাক নাম ছিল উম্মুল আসওয়াদ।
বংশ পরিচয়
মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের বনু আমর ইবনে লুই গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কুরাইশ বংশের যামআ ইবনে কায়স আর মদিনার বিখ্যাত নাজ্জার গোত্রের শামুস বিনেত কায়স ছিলেন তাঁর মা।
হজরত সাওদা বিনতে যামআ ছিলেন সম্পর্কে প্রিয়নবির আত্মীয়। প্রিয়নবির দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মা সালমা বিনতে আমর এবং সাওদার নানা কায়স ইবনে আমর ছিলেন আপন ভাই-বোন।
সাওদার প্রথম বিয়ে
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বিয়ের আগে হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহার একটি বিয়ে হয়েছিল। তাঁর চাচাতো ভাই সাকরান ইবনে আমর ছিল প্রথম স্বামী। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় অবস্থান কালেই সাকরান ইবনে আমর ৫ মতান্তরে ৬টি ছেলে মেয়ে রেখে ইন্তেকাল করেন।
সাওদার স্বপ্ন
প্রথম স্বামী সাকরান ইবনে আমরের মৃত্যুর আগে হজরত সাওদা রাদিয়ালুল্লাহ আনহা দু’টি স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দুটি ছিল এমন-
- হজরত সাওদা একবার স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে একখানি পা তাঁর কাঁধে রাখলেন। তিনি স্বপ্নের কথা তাঁর স্বামীকে জানালে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! তুমি যদি এ স্বপ্ন দেখে থাক তাহলে আমার মৃত্যু হবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে তোমার বিয়ে হবে।
- দ্বিতীয় স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে আছেন। হঠাৎ তার ওপর আকাশ থেকে চাঁদ ভেঙে পড়ে। স্বামী এ স্বপ্নের কথা শুনে বলেন, খুব শিগগিরই আমি মারা যাচ্ছি। আর আমার মৃত্যুর পর তোমার দ্বিতীয় বিয়ে হবে। সেই দিনই হজরত সাওদার প্রথম স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অল্প কিছুদিন পর মারা যান।
খাদিজার মৃত্যু ও সাওদার বিয়ে
নবুয়তের দশম বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তানদের জননী এবং গৃহকর্ত্রী হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল করেন। এ সময় সন্তান ও ঘর সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তিনি পৌত্তলিকদের উৎপাতও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সাহাবাদের অস্থিরতা বেড়ে যায়।
হজরত উসমান ইবনে মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহু স্ত্রী হজরত খাওলা বিনতে হাকিম রাদিয়াল্লাহু আনহা একদিন প্রিয়নবির কাছে গেলেন এবং নানান কথার ফাঁকে তিনি প্রিয়নবিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন যে, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আবার বিয়ে করুন।
প্রিয়নবি জানতে চাইলেন পাত্রী কে? খাওলা বললেন, বিধবা এবং কুমারি; দুই ধরনের পাত্রীই আছে। আপনি যাকে পছন্দ করেন, তার ব্যাপারেই প্রস্তাব দেয়া যেতে পারে।
প্রিয়নবি আবার জানতে চাইলেন পাত্রী কে? তখন খাওলা বললনে-
বিধবা পাত্রী হলো হজরত সাওদা বিনতে যামআ এবং কুমারি পাত্রী হলেন, হজরত আবু বকরের মেয়ে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
তখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঙ্গিতসূচক মন্তব্য করলেন যে, এ (বিয়ের) ব্যাপারে ভূমিকা পালনে মেয়েরাই অধিকতর যোগ্য।
অতঃপর হজরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা উভয় পরিবারের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান। হজরত সাওদার পিতা এ প্রস্তাবকে উত্তম বলে ঘোষণা দেন এবং নিজে অভিভাবক হয়ে বিশ্বনবির কাছে হজরত সাওদাকে বিয়ে দেন।
নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক বিশেষ সময়ে হজরত সাওদার সঙ্গে বিয়ে হয়। যখন তিনি খুবই সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে জীবনাতিপাত করছিলেন। হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংসারে হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার দায়িত্বগুলো যথাযথ পালন করেন। এভাবে প্রিয়নবির সঙ্গে অন্য কোনো স্ত্রী ছাড়াই হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ৩ বছর অতিক্রম করেন। হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাসহ তখনও প্রিয়নবির সংসারের সদস্য ছিলেন হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু। এ সব কিছুর যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
সাওদার উদারতা ও দূরদর্শীতা
হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অনেক দূরদর্শী মহিয়সী নারী। তিনি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মানসিকতা আঁচ করতে পারতেন। তিনি তার জন্য নির্ধারিত রাতটি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহুর সঙ্গে যাপনের জন্য দান করে দিতেন।
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য হজরত সাওদার হৃদয় ছিল ভালোবাসা ও আনুগত্যে পরিপূর্ণ। এছাড়াও হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু অনেক গুণের অধিকারী ছিলেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সম্পর্কে বলেন-
‘পৃথিবীতে একমাত্র সাওদাকে দেখলেই আমার ঈর্ষা হত; আমি যদি তাঁর মতো হতে পারতাম।’
সাওদার দানশীলতা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আখলাক ও স্বভাব-চরিত্রের এক অনুপম দিক ছিল দানশীলতা। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে থাকার ফলে হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা অধিক দানের অভ্যাস গঠন করে ফেলেছিলেন।
তিনি অনেক দান করতেন। তাঁর কাছে দান করার মতো কোনো কিছু থাকলে তিনি কখনোই কোনো সাহায্য প্রার্থীকে খালি হাতে ফেরত দিতেন না।
একবার খলিফা হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে একটি থলি পাঠান। তিনি থলি বহনকারীকে প্রশ্ন করলেন, থলিতে কী? বহনকারী বলল, ‘দিরহাম’। ‘থলিতে খেজুরের মত দিরহাম পাঠানো হয়’- এ কথা বলে তিনি সবগুলো দেরহাম তখুনি মানুষের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
প্রিয়নবির নির্দেশ পালন
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে হজরত সাওদা আল্লাহর রাসুলের সব নির্দেশ পালনে একনিষ্ঠ ছিলেন। হজরত সাওদার পাশাপাশি হজরত জয়নাব বিনতে জাহাশও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ পালনে কঠোর ছিলেন।
বিদায় হজের ভাষণে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবিত স্ত্রী ‘উম্মাহাতুল মুমিনিন’ (ঈমানদারদের মা)-এর বলেছিলেন, ‘আমার (ওফাতের) পরে তোমরা ঘরে অবস্থান করবে।’
যে কারণে হজরত সাওদা বিনতে যামআ এবং হজরত জয়নাব বিনতে জাহাশ প্রিয়নবির এ কথার ওপর আমল করতে গিয়ে আর কখনো হজ ও ওমরায় অংশগ্রহণ করেননি।
ইন্তেকাল
হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, হজরত সাওদা বিনতে যামআ রাদিয়াল্লাহু আনহা ৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ৫৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। অনেকেই বলেছেন যে, হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত সাওদা বিনতে যামআ রাদিয়াল্লাহু আনহার জানাযায় ইমামতি করেন।
শিক্ষা লাভ
নারীদের জন্য হজরত সাওদা হলেন ত্যাগ ও ধৈর্যের অনুপম দৃষ্টান্ত। হজরত সাওদা বিনতে যামআ ‘আত্মত্যাগ’-ই নারীদের জন্য অন্যতম শিক্ষা। নিজের স্বার্থকে ছোট করে দেখা অন্যকে প্রাধান্য দেয়া। বিশেষ করে যেসব নারীদের একাধিক সতীন থাকে তারা বয়সভেদে একে অপরকে প্রাধান্য দেবে।
যেভাবে হজরত সাওদা বিনতে যামআ রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজের অধিকারের রাতগুলো প্রিয়নবিকে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জন্য ছাড় দিয়েছেন।
আবার একে অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজে না বেরিয়ে অন্যকে সাহায্য করার গুণও অর্জন করতে পারেন। অন্যের নির্লোভ প্রশংসা করার গুণও অর্জন করা যেতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বর্তমান সময়ে নারীদেরকে হজরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহার গুণে গুণাম্বিত হওয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সংসার ও সমাজ বিনির্মানের তাওফিক দান করুন। আমিন।

উম্মুল মুমিনিন সাওদা বিনতে জাময়া (রা.)

হজরত খাদিজা (রা.) এর মৃত্যুতে রাসুল (সা.) খুবই ভেঙে পড়েন। সবসময় তিনি ভারাক্রান্ত মনে দিন যাপন করতেন। এ অবস্থা দেখে নবীজির আত্মীয়স্বজন খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ সময় হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.) এর স্ত্রী হজরত খাওলা বিনতে হাকিম (রা.) নবীজির খেদমতে হাজির হন। রাসুল (সা.) হজরত খাদিজা (রা.) এর বিয়োগে অত্যন্ত ব্যথিত ছিলেন। তার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে হজরত খাওলা বিনতে হাকিম (রা.) নবীজিকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার পরামর্শ দেন। হজরত খাদিজা (রা.) সংসারের যাবতীয় কাজ ও ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করতেন। সুখে-দুঃখে সব কাজে রাসুল (সা.) এর সহযোগিতা করতেন। তাই হজরত খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকালে সংসারটা যেন এলোমেলো হয়ে গেল। এদিকে ছেলেমেয়েদের দেখাশুনা করার মতো কেউ নেই। তাই হুজুর (সা.) সম্মতি দিলেন। প্রিয়নবীর সম্মতি পেয়ে হজরত খাওলা বিনতে হাকিম হজরত সাওদা (রা.) এর বাবার কাছে গিয়ে জানালেন, তিনি নবীজির সঙ্গে হজরত সাওদা (রা.) এর বিয়ের পয়গাম নিয়ে এসেছেন। সব কথা শুনে হজরত সাওদার বাবা খুশি হলেন। কারণ, রাসুল (সা.) শুধু নিজেই শ্রেষ্ঠ মানুষ, শ্রেষ্ঠ পয়গম্বর ছিলেন না বরং তার বংশও ছিল আরবের শ্রেষ্ঠ বংশ। তিনি মেয়ের মতামত নিয়ে রাজি হয়ে গেলেন। সব কথা পাকাপাকি হলে নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে নবীজির সঙ্গে হজরত সাওদা (রা.) এর বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ বিয়েতে ৪০০ দিরহাম মোহরানা ধার্য করে বিয়ের কার্য শেষ হয়।
উম্মুল মুমিনিন হজরত সাওদা (রা.) এর বাবার নাম হজরত জাময়া ইবনে কায়েস ইবনে আবদে শামস (রা.)। আর মার নাম হজরত শমুস বিনতে কায়েস ইবনে জায়েদ (রা.)। হজরত সাওদা (রা.) এর মা-বাবা মক্কার অধিবাসী ছিলেন। রাসুল (সা.) এর সঙ্গে বিয়ের আগে হজরত সাওদা বিনতে জাময়া (রা.) ছিলেন বিধবা। তার প্রথম বিয়ে হয় চাচাতো ভাই হজরত সাকরান ইবনে আমর (রা.) এর সঙ্গে। ইসলামের প্রাথমিক যুগেই হজরত সাওদা (রা.) এবং হজরত সাকরান (রা) একই সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর তারা পৌত্তলিকদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য আবিসিনিয়ায় পালিয়ে যান। আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসে হজরত সাকরান (রা.) ইন্তেকাল করেন। আর স্ত্রীকে রেখে যান অত্যন্ত অসহায় অবস্থায়।
রাসুল (সা.) এর সঙ্গে বিয়ের পর হজরত সাওদা বিনতে জাময়া (রা.) নবীজির সংসার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখাশোনা করতেন। হজরত খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকালে নবী সংসারে যে এলোমেলো অবস্থা সৃষ্টি হয়, তিনি তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসেন। পুরো সংসারটা তিনি একাই দেখাশোনা করতেন। হজরত খাদিজা (রা.) এবং নবীজির চাচা আবু তালেবের মৃত্যুতে মক্কার কাফেররা রাসুল (সা.) এর সঙ্গে খুবই নিষ্ঠুর ব্যবহার করত। হজরত সাওদা (রা.) তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন এবং নবীজির দুঃখ মোচনে সবসময় যতœবান হতেন। তিনি নবীকন্যা হজরত উম্মে কুলসুম (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.) কে সর্বদা হাসি-আনন্দে রাখার চেষ্টা করতেন। কারণ, তারা ছিলেন বয়সে খুব ছোট। মা-হারা হয়ে তারা কান্নাকাটি করে মন খারাপ করে এক কোণে বসে থাকতেন। তাই তিনি সবসময় তাদের দেখাশোনা করতেন। রাসুল (সা.) এর দুই ছেলে আবুল কাশেম ও আবদুল্লাহ ছোটকালেই ইন্তেকাল করেন। আর হজরত জয়নব (রা.) এবং হজরত রুকাইয়া (রা.) বিয়ের পর স্বামীগৃহে চলে যান।
উম্মুল মুমিনিন হজরত সাওদা (রা.) কে বিয়ে করার মাত্র ১৫ দিন পর প্রিয় নবীজি (সা.) হজরত আয়শা (রা.) কে বিয়ে করেন। তখন তিনি মাত্র ছয় বছরের বালিকা। বিয়ের পর হজরত আয়শা (রা.) রাসুল (সা.) এর ঘরে আসার আগে তিন বছর পিতৃগৃহে ছিলেন। এ তিন বছর হজরত সাওদা (রা.) রাসুল (সা.) এর একমাত্র স্ত্রী হিসেবে সংসার দেখাশোনা করেন। হজরত আয়শা (রা.) এর বয়স ছিল খুবই অল্প, তাই তিনি নবীজির সংসারে আসার পর সংসার-কাজকর্ম কিছুই বুঝতেন না। হজরত সাওদা (রা.) তাকে সাংসারিক ব্যাপারে অনেক পরামর্শ ও সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। হজরত সাওদা (রা.) ও হজরত আয়শা (রা.) এর বয়সের মধ্যে বলতে গেলে আকাশ-পাতাল তফাৎ ছিল। তবুও সুসম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যে সরস মধুর ব্যবহার ও হাসি-ঠাট্টার অবতারণা হতো, যাতে রাসুল (সা.) এর সংসারে অনাবিল বেহেশতি খুশির ধারা নেমে আসত। তাই হজরত সাওদা (রা.) সম্পর্কে হজরত আয়শা বলেছেন, ‘আমি শুধু একজন মহিলার কথাই জানি, যার অন্তরে হিংসার ছোঁয়া মোটেই পড়েনি। আর তিনি হলেন সাওদা।’ নবীজির পবিত্র সাহচর্য লাভের ফলে হজরত সাওদা (রা.) এর মাঝে উদারতা এবং দানশীলতার অপরূপ সমন্বয় ঘটেছিল। নবীজি (সা.) এর মতো হজরত সাওদা (রা.) এর মনও দয়ায় ভরপুর ছিল।
রাসুল (সা.) এর ওফাতের পর, তখন হজরত ওমর (রা.) এর শাসনকাল। একদিন হজরত ওমর (রা.) এক বাহককে দিয়ে হজরত সাওদা (রা.) এর জন্য একটি থলে পাঠালেন। থলেটি ছিল দিরহামে ভরা। তিনি বাহককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘থলেতে কি আছে?’ উত্তরে বাহক বললেন, ‘দিরহাম’। হজরত সাওদা (রা.) বললেন, থলেটি দেখতে ঠিক খেজুরের থলের মতো। খেজুরের থলেতে কি দিরহাম থাকতে পারে? এ কথা বলে তিনি খেজুরের মতো সব দিরহাম অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। তিনি নবীজির খুব অনুগত ছিলেন এবং তার কথামতো সব কাজ করতেন।
হজরত সাওদা (রা.) ছিলেন খুবই স্বাস্থ্যবতী, সুন্দরী ও দীর্ঘাঙ্গিনী। তিনি অল্প কথা বলতেন, তীক্ষè বুদ্ধি-সম্পন্না ছিলেন। তবে তার মেজাজ ছিল একটু কড়া। কোনো কোনো সময় মামুলি ব্যাপারে রাগ করে বসতেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আবার তার মধ্যে হাসি-কৌতুকের পবিত্র ফোয়ারা বয়ে যেত। অনেক সময় তিনি বিভিন্ন কথা দিয়ে নবীজিকে হাসাতেন। একবার তিনি রাসুল (সা.) কে বলেন, গতরাতে আমি আপনার পেছনে নামাজ পড়েছি; কিন্তু আপনি রুকুতে এত দেরি করেছেন যে, আমার নাক ফেটে যেন রক্ত না বের হয়, সে জন্য আমি নাক চেপে ধরেছিলাম। হুজুর (সা.) তার কথা শুনে মৃদু হাসলেন। 
হজরত সাওদা (রা.) এর আগের স্বামীর ঔরসজাত এক পুত্রসন্তান ছিলেন। নাম তার আবদুর রহমান। হজরত ওমর (রা.) এর শাসনামলে সালাতার যুদ্ধে কাফেরদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন। হজরত সাওদা (রা.) পাঁচটি হাদিস বর্ণনা করেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত সাওদা বিনতে জাময়া (রা.) ২২ হিজরি সনে হজরত ওমর (রা.) এর খেলাফতের শেষের দিকে ইন্তেকাল করেন। তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

উম্মুল মুমিনীন


মুহাদ্দিসিন ও ঐতিহাসিকরা এ বিষয়ে একমত যে, উম্মাহাতুল মুমিনিনের সংখ্যা ছিল ১১ জন। এর অধিক সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে রাসুল (সা.) এর সর্বমোট স্ত্রী ছিলেন ১৩ জন। তবে একই সময়ে তাঁর পতœীরূপে যারা ছিলেন, তাদের সর্বোচ্চ সংখ্যা হলো ৯ জন। নিম্নে উম্মত-জননীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিত উল্লেখ করা হলো
খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ (রা.) 
প্রাক-ইসলামি যুগে  খাদিজা (রা.) ‘তাহিরা’ নামে খ্যাত ছিলেন। তার প্রথম বিয়ে হয় তামিম গোত্রের আবু হালা হিন্দ ইবনে জুরারাহর সঙ্গে। এই ঘরে খাদিজা (রা.) এর তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। হিন্দ, হারিস এবং জায়নাব নামক এক কন্যা। এ স্বামীর মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় বিয়ে হয় মাখজুম গোত্রের আতিক ইবনে আইজের সঙ্গে। তার ঔরসে খাদিজা (রা.) এর গর্ভে এক কন্যা জন্ম লাভ করে। কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর আতিক ইবনে আইজও মৃত্যুবরণ করেন। বিধবা ধনবতী খাদিজা (রা.) মক্কার ‘আল-আমিন’ নামে খ্যাত মুহাম্মদ (সা.) এর কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা, বিশ্বস্ততা ইত্যাদি সদ্গুণের কথা শুনে তার সঙ্গে অংশীদারিত্বে ব্যবসা করার আহ্বান জানান। মায়সারা নামক খাদিজা (রা.) এর ভৃত্য সিরিয়ায় দুবার বাণিজ্য যাত্রায় মুহাম্মদ (সা.) এর অনুগামী হয়। ভৃত্য মায়সারার মুখে প্রতিনিধি মুহাম্মদ (সা.) এর গুণপনার বিবরণ শুনে, তার বাণিজ্য কুশলতা ও সততার কথা জেনে, তদুপরি তার বিনয়, ভদ্রতা, শিষ্টাচারিতা এবং উত্তম চরিত্রের বিশেষ গুণ দেখে  খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.) এর সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য আগ্রহান্বিত হন। মুহাম্মদ (সা.) এর অভিভাবক চাচা আবু তালিবের সম্মতিক্রমে তারা উভয়ে শুভ পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। আল-আমিনের সঙ্গে তাহিরার শুভ মিলন যেন মণিকাঞ্চনযোগ। রাসুল (সা.) খাদিজা (রা.) কে নিয়ে ২৫ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। খাদিজা (রা.) এর ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেনিনি। একমাত্র ইবরাহিম (রা.) ছাড়া রাসুল (সা.) এর সব সন্তানই  খাদিজা (রা.) এর গর্ভজাত। হিজরতের তিন বছর আগে নবুয়তের দশম বছরে ১১ রমজান উম্মত জননী  খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন।
সাওদা বিনতে জামআ (রা.) 
খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকালের পর সাওদা (রা.) রাসুল (সা.) এর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। এর আগে সুকরান ইবনে আমরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সুকরান (রা.) মৃত্যুবরণ করলে প্রিয়নবী (সা.) তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। তখন তাদের উভয়ের বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর। উম্মুল মুমিনিন  সাওদা বিনতে জামআ (রা.) ২২ হিজরি সনে ওমর (রা.) এর খেলাফতের শেষের দিকে ইন্তেকাল করেন। তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) 
নবুয়তের দশম বর্ষে রাসুল (সা.) এর সঙ্গে ইসলামের প্রথম খলিফা  আবু বকর (রা.) এর কন্যা আয়েশা (রা.) বিয়ে হয়। তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর। ইবনে হিশামের মতে, আয়েশার বয়স ছিল সাত বছর। হিজরি দ্বিতীয় সনের শাওয়াল মাসে তাকে নবীগৃহে আনা হয়। তখন তার বয়স হয়েছিল ৯ বছর। আয়েশা (রা.) ৫৭ হিজরির ১৭ রমজান রোজ মঙ্গলবার ৬৬ বছর বয়সে  মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
হাফসা বিনতে উমর (রা.) 
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা  উমর (রা.) এর কন্যা  হাফসা (রা.)। এর আগে খুনায়স ইবনে হুজাফা (রা.) এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী বদরযুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শহীদ হলে রাসুল (সা.) তাকে বিয়ে করেন। তিনি অতিমাত্রায় সিয়াম পালনকারিণী এবং রাতের বেলায় খুব বেশি ইবাদাত করতেন। তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, রোজা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)
জয়নব (রা.) ছিলেন কোরায়েশ গোত্রের শাখাগোত্র আসাদ ইবনে খুজায়মা গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা। জায়দ তাকে তালাক দিলে রাসুল (সা.) তাকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করে নেন। তিনি ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
জয়নব বিনতে খুজায়মা (রা.)
তার উপনাম ছিল ‘উম্মুল মাসাকিন’ তথা গরিবের মাতা। দরিদ্রদের প্রতি অত্যধিক সহানুভূতিশীল ও অতিশয় সদয় ছিলেন বলে তিনি এ নামে খ্যাত। তার প্রথম বিয়ে হয় তুফায়ল ইবনে হারিসের সঙ্গে। তুফায়লের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটলে আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ (রা.) এর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ (রা.) জিহাদের ময়দানে শহীদ হয়ে গেলে বৈধব্য দশায়  জয়নব (রা.) কে নবী করিম (সা.) পতœীরূপে বরণ করে নেন। তার মৃত্যু হয় রাসুল (সা.) এর ওফাতের পরে অন্যান্য উম্মাহাতুল মুমিনিনের  ইন্তেকালের  আগে। মতান্তরে  জয়নব বিনত খুজায়মা (রা) রাসুল (সা.) জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন।
উম্মে সালমা বিনতে আবি উমাইয়্যা (রা.)
তার প্রথম বিয়ে হয় আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আসাদ (রা.) এর সঙ্গে। কিন্তু  আবদুল্লাহ (রা.) ওহুদযুদ্ধে গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের সময় উম্মে সালমা (রা.) গর্ভবতী ছিলেন। সন্তান প্রসবের পর ইদ্দত শেষ হলে রাসুল (সা.) তাকে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে নেন। তার মৃত্যু সন নিয়ে মতভেদ আছে। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো, ৬৩ হিজরির শেষের দিকে তার মৃত্যু হয়।
উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.)
উম্মে হাবিবা (রা.) এর প্রথম বিয়ে হয় উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ আল-আসাদির সঙ্গে। উবায়দুল্লাহ খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করায় উভয়ের মাঝে সম্পর্কচ্ছেদ হলে রাসুল (সা.) তাকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করেন। উম্মে হাবিবা (রা.) ৪৪ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
মায়মুনা বিনতে আল-হারিস (রা.)
তার প্রকৃত নাম ছিল ‘বাররা’। রাসুল (সা.) তার ইসলামি নাম রাখেন মায়মুনা।  মায়মুনা (রা.) এর পূর্ববর্তী স্বামী আবু রুহুম ইবনে আবদুল উজ্জার মৃত্যুর পর  আব্বাস (রা.) এর প্রচেষ্টায় প্রিয়নবী (সা.) তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি হজ আদায়ের জন্য মক্কায় যান। হজ শেষে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
জুওয়ায়রিয়া বিনতে আল-হারিস (রা.)
তিনি ছিলেন বানু মুসতালিক গোত্রপতি আল হারিসের কন্যা। তার প্রথম স্বামী মুসাফি ইবনে মাফওয়ান আল-মুরায়সি যুদ্ধে নিহত হলে তিনি যুদ্ধবন্দি হয়ে মদিনায় আনীত হন। রাসুল (সা.)  জুওয়ায়রিয়া (রা.) কে বন্দিশালা থেকে মুক্ত করে স্বীয় পতœীরূপে বরণ করে নেন। ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)
তার প্রথম বিয়ে হয় ইহুদি গোত্র বানু কুরায়জার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সাল্লাম ইবনে মাশকামের সঙ্গে। তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার পর বানু নাদিরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কিনানা ইবনুর রাবীর সঙ্গে তার পুনর্বিয়ে হয়। কিনানা খায়বার যুদ্ধে নিহত হলে  সাফিয়্যা (রা.) বিধবা অবস্থায় বন্দিনি হয়ে রাসুল (সা.) এর সম্মুখে আনীত হলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নেন। হিজরির ৫০ সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, শুধু আয়েশা (রা.) ছাড়া প্রিয়নবী (সা.) আর কোনো কুমারী নারী বিয়ে করেননি। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন অবিবাহিত। তার যৌবনে তিনি বিয়ে করলেন ৪০ বছরের বয়স্কা এক বিধবাকে। নিজ জীবনের আরও ২৫ বছরকাল অর্থাৎ প্রিয়নবী (সা.) তার ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এই বৃদ্ধাকেই স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে পরিতুষ্ট ছিলেন। এর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। বরং অবশিষ্ট সব স্ত্রীকে তিনি গ্রহণ করেন পঞ্চাশোর্ধ্ব। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.) জীবনের শেষ বয়সে এতগুলো বিয়ে করেন।

উম্মুল মুমিনীন ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম





আয়িশা
Aisha.png
স্থানীয় নাম
(আরবি): عائشة
জন্ম
আয়িশাহ বিনতে আবু বকর

আনুমানিক ৬১৩/৬১৪ খ্রিষ্টাব্দ
মক্কাহেজাজ, আরব
(বর্তমান সৌদি আরব)
মৃত্যু১৩ই জুন ৬৭৮ (৬৪ বছর বয়সে)[১]
মদিনাহেজাজ, আরব
(বর্তমান সৌদি আরব)
সমাধিবাকিয়ুল গরকাদ, মদিনা, হেজাজ, আরব
(বর্তমান সৌদি আরব)
দাম্পত্য সঙ্গীহযরত মুহাম্মাদ (সা.)
(সম্ভাব্য ৬১৯ – জুন ৮, ৬৩২)
পিতা-মাতাআবু বকর (পিতা)
উম্মে রুমান বিনতে আমির (মাতা)
সামরিক কর্মজীবন
যুদ্ধ/সংগ্রামপ্রথম ফিতনাউটের যুদ্ধ
আয়িশা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রীগণের মধ্যে একজন।[২] তিনি ছিলেন তাঁর তৃতীয় স্ত্রী। ইসলামের ঐতিহ্য অনুসারে, তাকে "উম্মুল মু'মিনিন" বা "বিশ্বাসীদের মাতা" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মুসলিম সম্প্রদায় তাকে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করে থাকেন। এছাড়া ইসলামের ঐতিহ্যগত ইতিহাসেও তার অবদান অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[৩][৪][৫]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আয়িশা (রা.) ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে মতান্তরে ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে জন্মগ্রহণ করেন।[৬][৭] আবু বকর (রা.) তার পিতা, যিনি মুহাম্মদ (সা.)এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত একজন সাহাবী ও সহচর ছিলেন।[৮] তার পিতার নাম আবু বকর ও মাতার নাম উম্মে রুমান বিনতে আমির

মুহাম্মদ (সা.) এর সাথে বিয়ে[সম্পাদনা]

প্রচলিত নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, নবী মুহাম্মদ(সা.) এর সাথে ছয় বছর বয়স থাকাকালীন সময়ে আয়িশা (রা.) এর বিয়ে হয়।[৯][১০] কিন্তু নয় বছর মতান্তরে দশবছর বয়স থেকে তার বৈবাহিক জীবন শুরু হয়। এর পূর্বে তিনি তার বিবাহপরবর্তী সময় তার পিত্রালয়েই শিশুবৎসলভাবে অতিবাহিত করেন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। বয়সের দিক থেকে তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.) এর স্ত্রীদের মাঝে কনিষ্ঠতম[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মুহাম্মদ (সা.) এর সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

হিজরতের পূর্বে মুহাম্মাদ (সা.) তার প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) এর মৃত্যুতে অত্যন্ত ব্যথিত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আয়িশা (রা.) এর সাথে তার বৈবাহিক জীবন অনেকাংশে তাকে সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।[১১][১২][১৩][১৪][১৫] তার প্রথম স্ত্রীর পর আয়িশা ছিলেন তার সবচেয়ে প্রিয়তম স্ত্রী। অনেক নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ হাদিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। একটি হাদিসে দেখা যায়, এক সাহাবী যখন তাকে প্রশ্ন করলেন, "এই জগতে কোন মানুষটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "আয়িশা।"।[১৬] আরেকটি হাদিসে পাওয়া যায়, আয়শার(রা.) কক্ষটি তিনি এমনভাবে বানিয়েছিলেন যে তার দরজা সরাসরি মসজিদের দিকে ছিল।[১৭][১৮] তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী যিনি সামনে থাকা অবস্থায় তার কাছে ওহি অবতীর্ণ হয়েছিল।[১৯][২০]। অধিকন্তু, আয়েশা ও মুহাম্মাদ (সা.) এর মাঝে অত্যন্ত সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ক ছিল।[২১] তিনি তার অনেক জ্ঞান ও আদর্শ আয়শা (রা.)কে নিজ কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রদান করেছিলেন এবং অনেক সাহাবীকেই তিনি আয়িশা (রা.) এর কাছ থেকে ধর্মীয় বিধান শিক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন।[২২]

ব্যভিচারের অপবাদ ও ওহি নাজিলের মাধ্যমে সতীত্বের প্রমাণ[সম্পাদনা]

পবিত্র কুরআনের সুরা নুরে আয়িশা(রা.)এর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে। ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ, আয়িশা (রা.) তার গলার হার খুঁজতে গিয়ে তার হাওদা(উটের পিঠে পালকির ন্যায় কক্ষযুক্ত বাহন) ছেড়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে দাসগণ হাওদায় উঠে পড়েন এবং আয়িশার অনুপস্থিতিতে ওজনের তারতম্য না পেয়ে যাত্রা শুরু করে দেন। আয়িশা(রা.) ফিরে এসে দেখেন কাফেলা তাকে ছাড়াই চলে গেছে। তখন তিনি সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন। পরদিন সকালে সাফওয়ান বিন আল-মু'আত্তাল নাম্নী নবী(সা.) এর সেনাদলের এক বেদুঈন সদস্য আয়িশাকে খুঁজে পায় এবং তাকে তার কাফেলার পরবর্তী বিশ্রামস্থলে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে আসে। এ ঘটনা দেখে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইহাসসান বিন সাবিতমিসতাহ ইবনে উসামাহাম্মানাহ বিনতে জাহাশ (নবীর (সা.) অপর স্ত্রী জয়নব বিনতু জাহাশ'র ছোট বোন), এসব সাহাবী গুজব ছড়াতে থাকে , আয়িশা ও সাফওয়ান ব্যভিচার করে এসেছে। উসামা ইবনে জায়িদ নবীজি (সা.) এর কাছে আয়িশার প্রশংসা করে অপপ্রচারের বিরোধিতা করেন। মুহাম্মদ(সা.) আয়িশা(রা.) এর সাথে এ ব্যাপারে সরাসরি কথা বলতে আসলে তিনি আয়িশা(রা.) এর ঘরে বসে থাকা অবস্থাতেই তার উপর ওহি নাজিল হয় এবং তিনি ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তিনি আয়িশা(রা.) এর সতীত্বের নিশ্চয়তার ওহি পেয়েছেন। সুরা নুরে ব্যভিচার ও অপবাদ বিষয়ে বিধান ও শাস্তির নিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়। আয়িশা(রা.) এর অপবাদ রটনাকারীরা শাস্তি হিসেবে ৮০টি বেত্রাঘাত সাজাপ্রাপ্ত হন।[২৩]

মধুর ঘটনা[সম্পাদনা]

নবী(সা.) প্রতিদিন আসরের সালাতের পর তার স্ত্রীদের কক্ষ পরিদর্শন করতেন এবং তাদের খোঁজখবর নিতেন।[২৪] একবার তার এক স্ত্রী জয়নব বিনতু জাহাশ এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কিছু মধু পেলেন। এরপর থেকে যখনই নবীজী (সা.) জয়নবের ঘরে আসতেন, জয়নব তাকে কিছু মধু দিতেন,যা নবীজি (সা.) খুব পছন্দ করতেন। এরপর থেকে সবসময় মধু পান করার কারণে জয়নবের ঘরে নবীজি(সা.) অধিক সময় ব্যয় করতেন। এ ঘটনায় তার দুইজন স্ত্রী আয়িশা ও হাফসা ক্ষুব্ধ হলেন এবং একটা ফন্দি আঁটলেন। নবীজি (সা.) তাদের ঘরে একে একে গেলে তারা দুজনেই আলাদাভাবে নবীজিকে (সা.) বললেন, তারা নবীজির (সা.) মুখ থেকে দুর্গন্ধময় মাগাফির নামক কিশমিশের গন্ধ পাচ্ছেন। তিনি তা খেয়েছেন কিনা। উত্তরে তিনি তাদের বললেন যে তিনি জয়নবের কাছ থেকে মধু খেয়েছেন এবং তিনি আর কখনো সেটি খাবেন না।[২৫]}} এর পরপরই সুরা তাহরিমের একটি আয়াত নাজিল হয় যাতে বলা হয়, আল্লাহ বলেছেন আল্লাহ কর্তৃক বৈধকৃত সকল খাবার তিনি খেতে পারবেন।
হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশি করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন ? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়। আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
— কুরআন, সুরা ৬৬ (আত-তাহরিম), আয়াত ১-২[২৬]
এ ঘটনার পর লোকে বলাবলি করতে থাকে যে, রাসুল (সা.) এর স্ত্রীগণ তার সাথে ধারালোভাবে কথা বলছে এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনার কারণে নবী অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। নবীজি (সা.) দীর্ঘ এক মাস তার স্ত্রীগণের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ রাখলেন। হাফসাকে তার পিতা উমর (রা.) খুব শাসালেন এবং তা নবীজি (সা.) কে বললেন। অবশেষে, নবীজি (সা.)এর স্ত্রীগণ তার প্রতি অণুগত হলেন এবং সত্য কথা বলতে, বিনীত আচরণ করতে,[২৭] এবং পরকালীন জীবনের প্রতি মনোযোগী হতে সম্মত হলেন।[২৮]

মুহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যু[সম্পাদনা]

আয়শা (রা.) বিবাহ পরবর্তী সমস্ত জীবনে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সর্বাধিক প্রিয় স্ত্রী ছিলেন। যখন তিনি অসুস্থ হলেন এবং মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার আশঙ্কা করলেন তখন তিনি তার স্ত্রীগণকে জিজ্ঞাসা করলেন, পরবর্তী ক্রমে তিনি কার ঘরে থাকবেন ? যখন তার স্ত্রীগণ বুঝতে পারলেন যে তিনি আয়শার সাথে থাকতে চাইছেন তখন তারাও তদানুযায়ী অনুমতি ও সম্মতি দিলেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি তার ঘরেই ছিলেন এবং তার এই প্রিয়তমা স্ত্রীর বাহুযুগলে মাথা রেখেই মহানবী(সা.) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[২৯][৩০][৩১][৩২][৩৩]

পরবর্তী ভূমিকা[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ(সা.) এর মৃত্যুর পর আরও পনের বছর তিনি মদিনাতেই ছিলেন। তিনি তার অধিকাংশ সময় কুরআন ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ অধ্যয়নে ব্যয় করতেন।

খিলাফতকালীন সময়ে ভূমিকা[সম্পাদনা]

প্রথম ও দ্বিতীয় খিলাফতের সময় ভূমিকা[সম্পাদনা]

নবী (সা.) এর মৃত্যুর পর জনগণ আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচন করেন। তখন আয়িশা(রা.) নবী (সা.)এর স্ত্রী এবং খলিফার কন্যা হিসেবে সমধিক সম্মান পেতেন। এমনকি জনগণ তাকে নবীজি (সা.) এর কাছ থেকে "সিদ্দিক"(সত্যবাদী) উপাধি প্রাপ্ত আবু বকর (রা.) এর কন্যা হিসেবে "সিদ্দিকা বিনতু সিদ্দিক"(সত্যবাদীর কন্যা সত্যবাদিনী) বলে ডাকতে শুরু করে।[৩৪] আবু বকর (রা.) তার মৃত্যুর পূর্বকালে উমর (রা.) কে খলিফা নিযুক্ত করে যান।[৩৪] খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলেও তিনি দাপটের সাথে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহে মতামত প্রদান করার স্বাধীনতা লাভ করেছিলেন।[৩৪]

তৃতীয় খিলাফতের সময়ের ভূমিকা[সম্পাদনা]

উমর (রা.) আততায়ীর হাতে আহত হওয়ার পর মৃত্যুপূর্বে উসমান (রা.)কে খলিফা নিযুক্ত করে যান। তিনি খলিফা হওয়ার পর উমাইয়াদের সুবিধা প্রদান করেন। খলিফা হওয়ার পর প্রথম দুই বছর উসমান (রা.)র সাথে আয়িশার তেমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে উসমান (রা.) কে আয়িশা (রা.) ঘৃণা করতে শুরু করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল সাহাবী আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে ভুল বিচারে মারধর করা। এতে আয়িশা (রা.) রাগে ফেটে পড়েন এবং জনসম্মুখে বলে ওঠেন "এত তাড়াতাড়ি কীভাবে আপনি রাসুল (সা.)এর সুন্নাতকে ভুলে গেলেন যেখানে তাঁর চুলের গোছা, একটি জামা আর জুতো এখনো মলিন হয় নি ?.."[৩৫] এভাবে খলিফা উসমান (রা.) এর সাথে আয়িশার (রা.) রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। অবনতি একধাপ এগিয়ে যায় যখন ওসমান তার নিজ ভাই ওয়ালিদ ইবনে উকবা'র অপরাধের শাস্তির বিচার এড়িয়ে যান। আয়শা ও উসমানের মধ্যে এ নিয়ে তর্ক হয়, এক পর্যায়ে উসমান বলেন, কেন তিনি ঘর থেকে বের হলেন এবং কীভাবে তাকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছিল ?[৩৬] এর অর্থ ছিল এরকম ক্ষেত্রে আয়িশা ও তার মতো নারীদের কি এখনো রাষ্ট্রীয় বিষয়ে জড়িত হওয়ার অধিকার ও সামর্থ্য আছে ? জণগণ আয়িশা ও উসমানের সমর্থনে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ল, একদল উসমানের পক্ষ নিলো, আরেকদল আয়িশাকেই উসমানের উপরে যোগ্য বলে দাবি করল।
আবদুল্লাহ ইবনে সাদকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। মিশরের মুহাম্মাদ ইবনে হুজায়ফা উসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে নবীর স্ত্রীদের নামে বানিয়ে মিথ্যা চিঠি লেখেন। জনগণ উসমানের খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একটি বিদ্রোহী দল উসমানের বাড়ি অবরোধ করলে নবীর এক স্ত্রী সাফিয়া বিনতে হুয়াই তাকে আক্রমণ হতে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু জনগণ তাকেও অসম্মানের সহিত সরিয়ে দেন, নবীর স্ত্রীর সাথে জনগণের এই ব্যবহারে আয়িশা খুবই অবাক ও মর্মাহত হন। মালিক আল আশতার আয়িশার কাছে উসমানকে হত্যা ও উক্ত চিঠি সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়িশা উত্তর দেন, তিনি কখনোই মুসলিমগণ ও তাদের "ইমাম"কে হত্যার নির্দেশ দিতে চান নি। তিনি আরও দাবি করেন যে ওই চিঠিটি তার লেখা ছিল না। জনগণ উসমানের বিরোধিতা চালিয়ে যায়, ওদিকে আয়িশার মক্কা সফরের সময়ও চলে আসে। অবশেষে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে আয়িশা (রা.) মক্কায় চলে যেতে প্রস্তুত হন। উসমান (রা.) তাকে অন্য কিছু না বললেও জনগণের উপর তার প্রভাবের কথা চিন্তা করে তাকে থেকে যেতে বললেও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে মক্কার পথে যাত্রা অব্যহত রাখেন এবং মক্কায় চলে যান।[৫]

প্রথম ফিতনা[সম্পাদনা]

রাশিদুন খিলাফতে চার রাশিদুন খলিফার অধিনস্ত এলাকাসমূহ। উক্ত বিভক্ত এলাকাগুলো খলিফা আলির খিলাফতকালীন সময়ের প্রথম ফিতনার সাথে সম্পর্কিত।
  প্রথম ফিতনার সময় রাশিদুন খলিফা আলি ইবনে আবি তালিবের অধীনস্থ এলাকা
  প্রথম ফিতনার সময় মুয়াবিয়ার অধীনস্থ এলাকা
  প্রথম ফিতনার সময় আমর ইবনুল আসের অধীনস্থ এলাকা
উসমান (রা.) ঘাতক কর্তৃক নিহত হলে অনেক ব্যক্তিবর্গ আলি (রা.) কে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, একথা বলাবলি করতে থাকে। আলি (রা.) সরাসরি এ কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে জনগণ তাকে খলিফা নিযুক্ত করতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তবুও জণগণ জোরপূর্বক তাকে খলিফা মনোনীত করে। এরপরেও হত্যার সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে আলির সম্পর্ক বিষয়ে তর্ক বিতর্ক চলতে থাকে। একপর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করতে থাকে এবং আয়িশা (রা.)ও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। হত্যার প্রতিশোধ নেওবার উদ্দেশ্যে তিনি জনগণের সাথে এক হন এবং বসরার ময়দানে আলি (রা.) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজনে শরিক হন। আলি (রা.)-এর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে তিনি পেছন থেকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেন। ইসলামের ইতিহাসে এ যুদ্ধটি বসরার যুদ্ধ বা উটের যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে আলি (রা.) এর বিরুদ্ধবাহিনী পরাজিত হয় কিন্তু পরবর্তী ইতিহাসে এ যুদ্ধের প্রভাব ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী।[৩৭]

ইসলামে অবদান[সম্পাদনা]

আয়িশা(রা.) ছিলেন নবী মুহাম্মদ(সা.) এর তিনজন কুরআন মুখস্থকারী স্ত্রীদের মাঝে একজন। হাফসা(রা.) এর মতো আয়িশা(রা.) এর কাছেও নবী(সা.) এর মৃত্যুর পর লেখা কুরআনের অনুলিপি ছিল।[৩৮] আয়িশার(রা.) জীবদ্দশাতে ইসলামের বেশ কিছু প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট বিধিবিধান যেমন নারীদের পর্দার বিধান চালু হয়।

রাজনৈতিক অবদান[সম্পাদনা]

বসরার যুদ্ধে হেরে যাবার পর আয়িশা মদিনায় ফিরে যান এবং একজন শিক্ষক হয়ে ওঠেন।[২] মদীনায় চলে আসার পর, তিনি রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন হতে অব্যহতি নেন। কিন্তু তারপরও রাজনীতিতে তার প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হয় নি। তিনি, নীরবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যহত রাখার মাধ্যমে তাদের পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে থাকেন। মুসলিম সমাজে তিনি জ্ঞানী মহিলা হিসেবে পরিচিত ছিলেন যিনি পুরুষ সাহাবীদের সঙ্গে আইনকানুন নিয়ে তর্ক করতেন। [৩৯] এসময় তিনি একদল মহিলার সঙ্গে হজ্জ করেন এবং হজ্জের সকল নিয়ম পুঙ্কানুপুঙ্খরূপে অনুসরণ করেন। জীবনের শেষ দুবছর তিনি সবাইকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর গল্প শোনাতেন, এই উদ্দেশ্যে যে নবী (সাঃ)-এর নামে প্রচলিত মিথ্যা বর্ননাগুলো (জাল হাদিস) যেন বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা তখনকার ইসলামী আইনের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করছিল। আর এভাবেই আয়েশার রাজনৈতিক প্রভাব ইসলামের উপর প্রভাব বিস্তার অব্যহত রেখেছিল। [২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

উম্মুল মু'মিনিন হযরত আয়িশা(রা.) রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ হিজরি সনের ১৭ই রমজান(১৬ই জুলাই,৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৮ বছর। সাহাবী আবু হুরায়রা(রা.) তারাবিহ্'র নামাজের পর তার জানাজা পড়ান এবং জান্নাতুল বাকিতে তাকে কবরস্থ করা হয়।[৪০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1.  সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রাহ. লিখিত, মাওলানা মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম অনূদিত এবং রাহনুমা প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত। সিরাতে আয়েশা রাযি.। পৃষ্ঠা 217।
  2. ↑ ঝাঁপ দাও:   Spellberg 1994, পৃ. 3 ( ইংরেজি ভাষায় )
  3.  কুরআন 33:6
  4.  Brockelmann 1947 ( ইংরেজি ভাষায় )
  5. ↑ ঝাঁপ দাও:  Abbott 1942 ( ইংরেজি ভাষায় )
  6.  Abbott 1942, পৃ. 1 ( ইংরেজি ভাষায় )
  7.  Ibn Sa'd 1995, পৃ. 55 ( ইংরেজি ভাষায় )
    Aisha was born at the beginning of the fourth year of prophethood
    i.e., the year 613-614 ( ইংরেজি ভাষায় )
  8.  Esposito ( ইংরেজি ভাষায় )
  9.  Ahmed 1992 ( ইংরেজি ভাষায় )
  10.  Abbott 1942, পৃ. 3( ইংরেজি ভাষায় )
  11.  Ahmed 1992, পৃ. 51 ( ইংরেজি ভাষায় )
  12.  Roded 1994, পৃ. 36 ( ইংরেজি ভাষায় )
  13.  Roded 2008, পৃ. 23 ( ইংরেজি ভাষায় )
  14.  Joseph 2007, পৃ. 227( ইংরেজি ভাষায় )
  15.  McAuliffe 2001, পৃ. 55 ( ইংরেজি ভাষায় )
  16.  Mernissi 1988, পৃ. 65 ( ইংরেজি ভাষায় )
  17.  Mernissi 1988, পৃ. 107 ( ইংরেজি ভাষায় )
  18.  Abbott 1942, পৃ. 25 ( ইংরেজি ভাষায় )
  19.  Roded 1994, পৃ. 28 ( ইংরেজি ভাষায় )
  20.  Abbott 1942, পৃ. 46 ( ইংরেজি ভাষায় )
  21.  Mernissi 1988, পৃ. 104 ( ইংরেজি ভাষায় )
  22.  Mernissi 1988, পৃ. 78 ( ইংরেজি ভাষায় )
  23.  The story is told multiple times in the early traditions, nearly all of the versions being ultimately derived from Aisha's own account. এইসব বর্ণনা পাওয়া জাবেঃ সহীহ বুখারী৫:৫৯:৪৬২ (ইংরেজি)সহীহ মুসলিম৩৭:৬৬৭৩(ইংরেজি) and Guillaume 1955, পৃ. 494–499. ( ইংরেজি ভাষায় )
  24.  Great Women of Islam - Zaynab bint Jahsh( ইংরেজি ভাষায় )
  25.  সহীহ বুখারী৮:৭৮:৬৮২ (ইংরেজি) ( ইংরেজি ভাষায় )
  26.  কুরআন 66:1–2 ( ইংরেজি ভাষায় )
  27.  Ibn Sa'd 1995, পৃ. 132–133 ( ইংরেজি ভাষায় )
  28.  সহীহ বুখারী৩:৪৩:৬৪৮ (ইংরেজি) ( ইংরেজি ভাষায় )
  29.  Ahmed 1992, পৃ. 58 ( ইংরেজি ভাষায় )
  30.  Abbott 1942, পৃ. 69 ( ইংরেজি ভাষায় )
  31.  Lings 1983, পৃ. 339 ( ইংরেজি ভাষায় )
  32.  Haykal 1976, পৃ. 502–503 ( ইংরেজি ভাষায় )
  33.  Guillaume 1955, পৃ. 679 and 682 ( ইংরেজি ভাষায় )
  34. ↑ ঝাঁপ দাও:   Spellberg 1994, পৃ. 39–40 ( ইংরেজি ভাষায় )
  35.  Abbott 1942, পৃ. 108 ( ইংরেজি ভাষায় )
  36.  Abbott 1942, পৃ. 111 ( ইংরেজি ভাষায় )
  37.  Black 1994, পৃ. 34 ( ইংরেজি ভাষায় )
  38.  "Aishah bint Abu Bakr" (ইংরেজি ভাষায়)। Jannah.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-৩১
  39.  Geissinger 2011, পৃ. 42
  40.  Ibn Kathir, পৃ. 97 ( ইংরেজি ভাষায় )

টীকা[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • উম্মূল মু’মেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) , মাওলানা আ.ন.ম. আবদুল মান্নান, খোশরোজ কিতাব মহল
  • সীরাতে আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা , সাইয়্যেদ সুলায়মান নদভী , রাহনুমা প্রকাশনী, আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯১১১৮৭০
  • উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) , মাওলানা নূরুর রহমান , এমদাদিয়া লাইব্রেরী ,
  • নবীপত্নি হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর জীবনী, ২০১৪ , মাওলানা আল মুজাহিদ , রাবেয়া বুক হাউস
  • হযরত আয়েশা (আ:) এর জীবনী , রশিদ আহমেদ , শিরীন পাবলিকেশন্স
  • কণিষ্ঠ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) , হযরতুল আল্লামা সোলায়মান নদভী (রহ:) , শর্ষিণা লাইব্রেরী
  • মুহাদ্দিস ফকীহ্ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) ও রাসূলুল্লাহর অন্যান্য বিবিগণ , তৃতীয় সংস্করণ ২০১৫ , এ. এস. এম. আজিজুল হক আনসারী ( সম্পাদক ) , মীনা বুক হাউস , ISBN 9879848991626
  • আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত ৫০০ হাদীস , মুয়াল্লীমা মোরশেদা বেগম , পিস পাবলিকেশন
  • Afshar, HalehDemocracy and IslamHansard Society, 2006.
  • Rodinson, MaximeMuhammad, 1980 Random House reprint of English translation
  • Aisha bint Abi Bakr, The Concise Oxford Dictionary of World Religions, Oxford University Press, 2000
  • Rizvi, Sa'id AkhtarThe Life of Muhammad The Prophet, Darul Tabligh North America, 1971.
  • Askri, Mortaza, 'Role of Ayesha in the History of Islam' (Translation), Ansarian publication, Iran
  • Chavel, Geneviève. Aïcha : La bien-aimée du prophèteEditions SW Télémaque. 11 October 2007. আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৫৩৩০০৫৫২

উম্মুল মুমিনিন জয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুন নিছায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শানে  উম্মুল মুমিনীন ...

উম্মুল মুমিনীন ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম