Saturday, December 7, 2019

উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)

১০ রমজান, হিজরতের তিন বছর আগে ইন্তিকাল করেছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)’র প্রথম স্ত্রী  উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)। মানবজাতির মধ্যে চার শ্রেষ্ঠ নারীর মধ্যে অন্যতম হলেন এই মহীয়সী নারী।  অন্য তিনজন হলেন নিজ কন্যা হজরত ফাতিমা জাহরা (রা.) যিনি সব যুগের নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, হজরত ঈসা (আ.) এর মা হজরত মরিয়ম (রা.), ফেরাউনের স্ত্রী তথা মুসা (রা.)’র মাতৃতুল্য লালনকারী হজরত আসিয়া (রা.)। উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুসলমান। (যদিও পুরুষদের মধ্যে প্রায় একই সময়ে আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (রা.) দশ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে তাঁকেও প্রথম মুসলমান ধরা হয়।) বিশ্বনবী (সা.)’র  পেছনে সর্বপ্রথম যে দুই জন জামায়াতে নামাজ আদায় করেছেন তারা হলেন উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ও বালক আলী (রা.)। খাদিজা (রা.) মহান আল্লাহর এতটা নৈকট্য লাভ করেছিলেন যে যখন হজরত জিবরাইল (আ.) ওহী নিয়ে বিশ্বনবী (সা.)’র কাছে নাজিল হতেন তখন তিনি প্রথমে মহান আল্লাহর সালাম পৌঁছে দিতেন এই মহীয়সী নারীর কাছে। মহানবী (সা.)’র সঙ্গে বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর কাটিয়েছেন মহীয়সী নারী হজরত খাদিজা(রা.)। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন বিশ্বনবী (সা.) অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
রাসূল (সা.)-কে বিয়ের আগেও হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একত্ববাদী ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)’র ধর্মের অনুসারী এবং আরব জাতির মধ্যে সবচেয়ে ধনী মহিলা। হাজার হাজার উট তাঁর মালিকানাধীন বাণিজ্য-সম্ভার দেশ থেকে দেশে বহন করত বলে ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.)’র সঙ্গে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ৪০ বছর (এ সময় তাঁর বয়স আরো কম ছিল বলে কেউ কেউ মনে করেন, তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই তাঁর ৪০ বছর বয়স্ক হওয়ার মতটি সমর্থন করেন)। বিশ্বনবী (সা.)’র সঙ্গে বিয়ের ১৫ বছর পর যখন মহান আল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্বামীকে নবুয়ত দান করেন তখন থেকেই উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) নিজের সব সম্পদ বিশ্বজনীন ধর্ম ইসলামের প্রচার-প্রসার ও নও-মুসলিমদের ভরণ-পোষণের কাজে ব্যয় করতে থাকেন এবং ইসলামের পেছনেই ব্যয় হয়ে যায় তাঁর সমস্ত সম্পদ। ফলে তাঁর ইন্তিকালের পর ইয়াতিম কন্যা ফাতিমা (রা.) একটি মুদ্রা পরিমাণ সম্পদও উত্তরাধিকারসূত্রে (মায়ের কাছ থেকে) লাভ করেননি।
ইসলামের শৈশবে এর শত্রু কাফির-মুশরিকরা যখন মুসলমানদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপ করে তখন শো’বে আবু তালিব উপত্যকায় দিনের পর দিন অনাহারে থাকতে হয়েছিল উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)-কে।  ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনগুলোতে যখন রাসূল (সা.)-কে নানাভাবে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হতে হত এবং  তাঁর মাথায় ছাই বা পশুর নাড়ীভুঁড়ি চাপানো থেকে শুরু করে দাঁত-মুবারক পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছিল শত্রুরা তখন সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী হিসেবে পাশে ছিলেন জীবন-সঙ্গী উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)।
উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.)’র পবিত্র স্মৃতি যখনই স্মরণে আসত বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র দু’চোখ বেয়ে ঝরে পড়ত অশ্রুধারা। অন্য কোনো স্ত্রীই হজরত খাদিজা (রা.)’র সমক নন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশ্বনবী (সা.) খাদিজা (রা.) বান্ধবীদেরকেও শ্রদ্ধা করতেন। একবার বিশ্বনবী (সা.)’র কোনো এক স্ত্রী নিজেকে হজরত খাদিজা (রা.)’র চেয়ে উত্তম বলে দাবি করলে আল্লাহর রাসূল তাকে তিরস্কার করে বলেন : ‘আল্লাহর কসম, মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে কোনো উত্তম স্ত্রী দান করেননি। তিনি আমার প্রতি তখনই ঈমান এনেছিলেন যখন অন্যরা আমাকে বিদ্রুপ করত, তিনি আমাকে তখনই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যখন অন্যরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি তার সম্পদ ব্যয় করেছেন আমার জন্য এবং তাঁর মাধ্যমেই আমি সেইসব সন্তানের অধিকারী হয়েছি যা অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে আমার জন্য নির্ধারিত হয়নি। (বুখারি শরীফ) বলা হয়ে থাকে বিশ্বনবী (সা.)’র চারিত্রিক সুষমা ও মহানুভবতা, আলী (রা.)’র তরবারি এবং খাদিজা (রা.)’র অঢেল সম্পদ ছাড়া ইসলাম কখনও এতটা বিকশিত হতে পারত না। যে বছর হজরত খাদিজা (রা.) ইন্তিকাল করেন সেই বছর ইন্তিকাল করেন রাসূল (সা.)’র প্রিয় চাচা ও অভিভাবক হজরত আবু তালিব। তাই এ বছরটিকে ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল হোজন’ বা দুঃখের বছর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।     সূত্র : রেডিও তেহরান

No comments:

Post a Comment

উম্মুল মুমিনিন জয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুন নিছায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শানে  উম্মুল মুমিনীন ...

উম্মুল মুমিনীন ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম